দেশের প্রধান ক্রীড়া ভেন্যু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের আধুনিকায়নের কাজ শেষ হতে না হতেই নতুন এক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে লাগানো ঘাস মাত্র আটটি ম্যাচ খেলার পরই তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক মানের ঘাস কেন এত দ্রুত নষ্ট হয়ে গেল, তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘাসের মান রক্ষা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ চলাকালীন যে বিশেষ প্রজাতির ঘাস লাগানো হয়েছিল, তা দেশের আবহাওয়া ও খেলার চাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। মাত্র কয়েকটি লিগ ম্যাচ আয়োজনের পর মাঠের বিভিন্ন জায়গায় ঘাস মরে গিয়ে মাটির স্তর বেরিয়ে এসেছে। মাঠের ড্রেনেজ সিস্টেমের ত্রুটি এবং পর্যাপ্ত পরিচর্যার অভাবকেও এই দুর্গতির জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাটি নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ সংস্কারের পেছনে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) সূত্র মতে, মাঠকে পুনরায় খেলার উপযোগী করতে এখন বিকল্প ঘাস লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে নতুন করে ঘাস বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা ফিরতে আরও কয়েক মাস বিলম্ব হতে পারে। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, ঘাস নির্বাচনের ক্ষেত্রে সঠিক বিশেষজ্ঞ মতামত না নেওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারের এই বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হলো। মাঠের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল পরিদর্শন করেছে।
স্টেডিয়াম সংস্কারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন অব্যবস্থাপনা দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর ভঙ্গুর চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলছে। জাতীয় ভেন্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কেন তড়িঘড়ি করে মানহীন কাজ করা হলো, সেই প্রশ্ন এখন ফুটবল সংশ্লিষ্ট সবার মুখে মুখে। আপাতত বিকল্প ভেন্যুতে খেলা চালিয়ে নেওয়ার কথা ভাবা হলেও, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ঘাস বদলানোর এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের আর্থিক ও সময়ের অপচয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!