এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার ৫৭১ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার এলাকার মুনিরা ভবনে জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো সদর ও হাইমচর উপজেলার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এতো বড় পরিসরে একসঙ্গে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যা সেলিম। সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ধর্মচর্চার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে হবে। তিনি জানান, চাঁদপুর জেলায় এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১ হাজার ২২৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে সদর ও হাইমচরের ৫৭১ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।
চাঁদপুরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, চাঁদপুরকে উচ্চশিক্ষার জন্য আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজসহ বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এখান থেকেই বিসিএস কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, এসবের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতেও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে। কোথাও মাদকের কর্মকাণ্ড দেখতে পেলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়, সেজন্য প্রথম ধাপে ৫০ জনকে সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, 'তোমাদের দিকে চেয়ে আছে বাংলাদেশ।' জিপিএ-৫ পাওয়ার পর আত্মতুষ্টিতে না থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও ভালো ফলাফল করার জন্য নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রাইভেট পড়ার অজুহাতে শ্রেণিকক্ষের পাঠ বাদ না দেওয়ার পাশাপাশি মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
শিক্ষকদেরও সময়ের সঙ্গে নিজেদের দক্ষ করে 'স্মার্ট শিক্ষক' হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান আহসান পারভেজ। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখান এবং ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত দুটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বালু কাটা বা জায়গা ভরাট না করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করার পাশাপাশি দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অভিভাবকেরাও সন্তানদের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এমন আয়োজন করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—জিপিএ-৫ জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়; বরং এটি উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা অর্জন, নৈতিক মূল্যবোধ এবং দেশসেবার পথে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি। মুনিরা ভবনের অনুষ্ঠানটি তাই শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতির পাশাপাশি তাদের সামনে বড় স্বপ্ন ও দায়িত্বের বার্তাও তুলে ধরে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!