উৎসবের রঙে সাজছে...
অন্যান্য

রাজধানীতে প্রবাসীর মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার: উন্মোচিত হলো চাঞ্চল্যকর খুনের রহস্য

রাজধানীতে প্রবাসীর মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার: উন্মোচিত হলো চাঞ্চল্যকর খুনের রহস্য
লেখা বড়/ছোট করুন:

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় একটি ভবনের বেজমেন্ট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানিয়েছে, তিনি সৌদি আরব প্রবাসী মো. মুকাররম। মূলত পরকীয়া প্রেম এবং অর্থ আত্মসাতের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।

​তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৭ মে) দুপুর দেড়টার দিকে মুগদা থানার মান্ডা ১ম গলি এলাকার আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর 'শাহনাজ ভিলা' নামের একটি বাড়ির বেজমেন্ট থেকে পলিথিনে মোড়ানো পচাগলা অবস্থায় শরীরের ৭টি খণ্ড উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তখন নিহতের মাথাটি নিখোঁজ ছিল। পরবর্তীতে রোববার মধ্যরাতে নিহতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাশের মানিকনগর এলাকার একটি গলি থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে মুগদা থানা পুলিশ।

​র‍্যাব-৩ এর উপ-পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার সাইদুর রহমান সোমবার (১৮ মে) সকালে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রবাসী মুকাররম এক নারীর সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সেই প্রেমিকা কৌশলে মুকাররমকে ঢাকায় ডেকে এনে তার এক বান্ধবীর বাসায় তোলেন। সেখানে সুপরিকল্পিতভাবে মুকাররমকে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়।

​র‍্যাব আরও জানায়, মুকাররম পুরোপুরি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে প্রেমিকা ও তার বান্ধবী মিলে তাকে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এরপর নিহতের পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে ঠান্ডা মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুরো শরীর কেটে মোট ৮টি টুকরো করা হয়। এরপর দেহাংশগুলো আলাদা আলাদা পলিথিনে ভরে শাহনাজ ভিলার বেজমেন্টসহ আশেপাশের ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে যায় খুনিরা।

​মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি প্রায় ৬ দিন আগের এবং এটি সম্পূর্ণ পচে গলে গিয়েছিল, এমনকি পেট থেকে ভুঁড়িও বেরিয়ে এসেছিল। মরদেহের অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

​আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খুনের মূল রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে মা-মেয়েসহ ৩ জনকে আটক ও পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৩। ঘটনার বিস্তারিত আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুরো ঘটনার তদন্ত ও বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ ও র‍্যাব।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!