বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত বা অপসারণের মতো গুরুতর শাস্তি প্রদান করতে হলে তা অবশ্যই শিক্ষা বোর্ডের 'আপিল ও সালিশ কমিটি' কর্তৃক পরীক্ষিত হতে হবে। বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার আগে গভর্নিং বডি কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত বা চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
'মোহা. আখতারুজ্জামান বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য' মামলায় বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী ও বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবিরের বেঞ্চ রায়ে বলেছেন, বেসরকারি কলেজের শিক্ষক বরখাস্তের ক্ষেত্রে প্রবিধানমালা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের নীতি যথাযথ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো শিক্ষককে কারণ দর্শানোর যথোপযুক্ত সুযোগ না দিয়ে বা মৌখিক নির্দেশে তড়িঘড়ি তদন্ত করে বরখাস্ত করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
মামলার পটভূমি: ২০১৪ সালে কিশোরগঞ্জের গচিহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল মনসুরের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষিকার অসদাচরণের অভিযোগ। পরবর্তীতে গভর্নিং বডি তাকে বরখাস্ত করে। তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটি বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নামঞ্জুর করে এবং তাকে বকেয়া বেতনসহ পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট করে।
হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া বরখাস্ত কার্যকর করা যায় না। যেহেতু শিক্ষক ইতোমধ্যে অবসর বয়সে পৌঁছেছেন, তাই তাকে পূর্বের পদে পুনর্বহালের সুযোগ নেই; তবে তিনি বরখাস্তের তারিখ থেকে অবসর পর্যন্ত বকেয়া বেতন, ভাতা ও পেনশনের সব পাওনা পাবেন।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!