পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে ১২০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ক্লাসে উপস্থিতি রয়েছে নিতান্তই নগণ্য। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে মাত্র সাতজন শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে একজন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কেউই ছিল না, আর নবম ও দশম শ্রেণিতে তিনজন করে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
শিক্ষার্থীদের এ নগণ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এই সংকটের কারণ হিসেবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।’
বিদ্যালয়টির ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলও হতাশাজনক। এ বছর ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। ২০২৫ সালে আট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল একজন। অর্থাৎ দুই বছরে ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুজন।
গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নেছারাবাদসহ পিরোজপুরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে পান, নথিতে ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত পাঠদানে অংশ নিচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, কাগজে থাকা বাকি ১১৩ শিক্ষার্থী কোথায়?
বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন ও কর্মচারী ২ জন। শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত সাত-আটজনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকায় বিদ্যালয়ের নথিতে ১২০ শিক্ষার্থীর হিসাব কীভাবে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!