বরগুনার পায়রা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর রাবেয়া আক্তার জুঁই (১৫) নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তালতলী উপজেলার সাগর মোহনা তেতুলবাড়িয়ার চর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় পায়রা নদীর তীরে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হন জুঁই।
জুঁই রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা জনি চৌধুরীর মেয়ে। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নরহা গ্রামে। সম্প্রতি তিনি ও তার মা বরগুনায় একটি ভাড়াটিয়া বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
জানা যায়, ঢাকার মিরপুরে জুঁইদের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকেন জীবন মাহমুদ মাহফুজ। সেই সূত্রেই জুঁই, তার মা তাসলিমা বেগম ও বান্ধবী মরিয়াম ইসলাম রিয়া বরগুনায় মাহফুজের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রোববার সকালে পৌঁছানোর পর তারা তাড়াহুড়া করে পাশের পায়রা নদীর পাড়ে যান। একপর্যায়ে দুই বান্ধবী জড়াজড়ি করে নদীতে পড়ে গেলে রিয়া পাড়ে উঠতে পারলেও সাঁতার না জানা জুঁই জোয়ারের তোড়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
ঘটনার পর রোববার থেকেই বরগুনা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় থানা পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। একদিন পর সোমবার বিকেলে সাগর মোহনার তেতুলবাড়িয়া চরে জুঁইয়ের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জুঁইয়ের মা তাসলিমা বেগম বলেন, তাদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন জীবন মাহমুদ মাহফুজ। সেই সূত্রেই মাহফুজদের গ্রামের বাড়ি বরগুনাতে তিনি মেয়ে ও মেয়ের বান্ধবীকে নিয়ে বেড়াতে আসেন।
ভাড়াটিয়া জীবন মাহমুদ মাহফুজ বলেন, নিখোঁজ জুঁইয়ের মা ডাবের ব্যবসা করেন। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে জুঁই এবং তার বান্ধবীকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা নদীর পাড়ে যায়। তারা সাঁতার না জানায় এমন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বলে তিনি জানান।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ্ আজিজ।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!