উৎসবের রঙে সাজছে...
জাতীয়

প্রেমিকাকে মোবাইল কিনে দিতে নিজের অপহরণের নাটক, বাবার কাছে মুক্তিপণ দাবি

প্রেমিকাকে মোবাইল কিনে দিতে নিজের অপহরণের নাটক, বাবার কাছে মুক্তিপণ দাবি
লেখা বড়/ছোট করুন:

প্রেমিকাকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার টাকা জোগাড় করতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছেন বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তবে পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেস্তে যায় তার পরিকল্পনা। পরে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, সাব্বির হোসেন নামে ওই শিক্ষার্থী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। তিনি উপজেলার পলিমহেশপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেননি সাব্বির। সেদিন রাত ৮টার দিকে তার বাবা দুপচাঁচিয়া থানায় অভিযোগ করেন, একটি আইপি নম্বর থেকে ফোন করে ছেলেকে মারধরের শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে রাজশাহী শহরের একটি স্থান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সাব্বির কোনো অপহরণকারীর কবলে পড়েননি। বরং তিনি নিজেই আত্মগোপনে থেকে পুরো অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির পুলিশকে জানান, প্রেমিকাকে নতুন একটি মোবাইল ফোন উপহার দেওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই নিজের ব্যবহৃত আইপি নম্বর থেকে বাবার কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করেন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে ফোনে মারধরের শব্দ শোনানোর অভিনয়ও করেন।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। শুধু প্রেমিকাকে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য তিনি এমন পরিকল্পনা করেন, যা তার পরিবারকে চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছিল। পুলিশ জানায়, কাউন্সেলিং শেষে সাব্বিরকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!