উৎসবের রঙে সাজছে...
অন্যান্য

রাবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মাথা ফাটল এক শিক্ষার্থীর, আহত আরও কয়েকজন

রাবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মাথা ফাটল এক শিক্ষার্থীর, আহত আরও কয়েকজন
লেখা বড়/ছোট করুন:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র দুই বিভাগের সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে ইতিহাস বিভাগ ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলা শেষে স্লেজিং ও উদযাপনকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাউন্ড অব ১৬-এর খেলায় বিকাল ৩টায় ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলা শুরু হয়। নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলে উভয় দল সমান অবস্থানে থাকলে খেলা ট্রাইবেকারে গড়ায়। এসময় ইতিহাস বিভাগ জয় পেলে দুই বিভাগের দর্শকের মধ্যে স্লেজিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নিলে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও দুই বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ সানাউল্যাহ রাফসান বলেন, 'পুরো ম্যাচজুড়েই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলোয়াড়রা গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন। ম্যাচ জয়ের পর আমরা স্বাভাবিকভাবে উদযাপন করছিলাম। তখন তাদের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক আমাদের এক খেলোয়াড়কে আক্রমণ করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাদের একজনের হাতে থাকা ইটের আঘাতে আমাদের ডিফেন্ডার জিম ভাইয়ের মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ইট ছোড়া হয়নি। আমরা ম্যাচটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে চেয়েছিলাম। এখন আমরা চাই বিষয়টি মাঠের ভেতরেই সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা হোক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।'

অন্যদিকে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান জামান বলেন, 'ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউট হয়, তখন গ্যালারি থেকে স্লেজিং চলছিল। ইতিহাস বিভাগ পেনাল্টিতে জয়ের পর গ্যালারি থেকে আমাদের গোলরক্ষকে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। গোলরক্ষক বিষয়টি দেখালে ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন খেলোয়াড় তার দিকে তেড়ে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। ঘটনায় আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ও আহত হয়েছেন। গ্যালারি ভেঙে আমাদের দর্শকদের দিকেও অনেকে তেড়ে আসেন। মাঠে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাই আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।'

এ বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোকসানা বেগম টুকটুকি বলেন, 'খেলাটি শুরু থেকে সুন্দরভাবেই চলছিল। টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জেতার পর একপর্যায়ে মারামারি ও উত্তেজনা দেখা দেয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। ইতিহাস বিভাগের একজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার বিষয়টি আমি দেখিনি, তবে পরে বিষয়টি জানতে পেরেছি।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি চাই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যারা অপরাধী, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে খেলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে। খেলোয়াড় প্রবেশের ক্ষেত্রে আমি নিজে গেটে তালিকা ধরে দায়িত্ব পালন করেছি। তালিকার বাইরে কাউকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, 'ঘটনাটি পুরোপুরি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।'


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!