রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। লিফটে ওঠার সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি এবং এর জেরে সংঘর্ষ হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই ঘটনার জেরে রাতে শেরেবাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে ফের মারামারি হয়। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরে ছাত্রদল নেতার কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় রাতুল হাসান রুম্মান ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হোসাইন শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলায় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রাতে শেরেবাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে ফের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাতুল হাসান রুম্মান ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের অনুসারী। রাতের ঘটনার একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফ ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করলে তিনি পালিয়ে যান এবং তার কক্ষে ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে রাতুল হাসান রুম্মান বলেন, দুপুরে ক্লান্ত থাকায় তিনি হোসাইন শরীফকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলে লিফট ধরতে বলেছিলেন। এতে শরীফ তার পরিচয় জানতে চান এবং তাকে লিফটে উঠতে বাধা দেন। পরে রাতে ফের বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে হোসাইন শরীফের দাবি, রাতে রাতুলসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন এবং তাকে আঘাত করেন। একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফ ১৫ জনকে নিয়ে এসে তার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান এবং হুমকি দেন।
ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফ বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সিনিয়রের সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলে হাতাহাতি হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বলেন, এটি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা। আগামীকাল সবাইকে নিয়ে বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!