মাগুরার বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত করা পেপারবুক (মামলার যাবতীয় নথি) হাইকোর্টে পৌঁছেছে।
সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুকটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। এরপর তিনি মামলাটির শুনানির জন্য হাইকোর্টের একটি ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হবে।
এ মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি, মেডিকেল রিপোর্ট, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য এবং মামলার মৌখিক ও দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সাক্ষ্য ও প্রমাণাদির ভিত্তিতে প্রধান আসামি হিটু শেখের বিরুদ্ধে শিশু নির্যতন দমন আইনের ৯ ও ২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
প্রসঙ্গত, মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসে গত ৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। এ ঘটনার পর মাগুরাসহ সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
গত ৮ মার্চ পুলিশের অভিযুক্ত চারজনকেই আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন শিশুর মা আয়েশা আক্তার।
ধর্ষণের ঘটনার পর শিশুকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ফরিদপুর মেডিকেল ও পরে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় শিশুটি।
এ ঘটনার পর পুলিশের রিমান্ড চলাকালে মামলার মূল আসামি হিটু শেখ ১৫ মার্চ মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সেখানে এ ঘটনায় সে একাই জড়িত বলে স্বীকার করে।
১৩ এপ্রিল মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মাগুরা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আলাউদ্দিন সরদার শিশুটির মায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আসামিরা হলেন- আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ, বোনের শাশুড়ি জাহেদা বেগম, বোনজামাই সজীব শেখ ও সজীবের বড় ভাই রাতুল শেখ।
২৩ এপ্রিল চার্জ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ৭ মে অষ্টম কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্য পর্ব শেষ হয়।
৮ মে আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ১২ ও ১৩ মে যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদালত। ওই দিনই আদালত হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!