কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেও চোটশঙ্কায় মরক্কো, উদ্বেগের কেন্দ্রে সাইবারি
কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মরক্কো। তবে দাপুটে এই জয়ের মধ্যেই বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের অন্যতম সেরা তারকা ইসমাইল সাইবারি। শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে মাত্র ২২ মিনিট খেলেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
একটি আক্রমণ গড়ার পথে দৌড়ানোর সময় ডান পায়ের পেছনের অংশে অস্বস্তি অনুভব করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বদলির ইঙ্গিত দেন। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও ঝুঁকি এড়াতে তাকে তুলে নেন কোচিং স্টাফ। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন সুফিয়ান রাহিমি, যিনি পরে দলের তৃতীয় গোলটি করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাইবারির ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে (উরুর পেছনের পেশি) টান লেগেছে—যা হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেইন হতে পারে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই চোটের প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে এবং তিনি টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো খেলতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। চলতি বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন সাইবারি—ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে গোল করে তিনি দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে শেষ ষোলোয় খেলতে নামেন। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেন ছেড়ে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ট্রান্সফার ফিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তিতে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়েছেন তিনি。
এটি সাইবারির ক্যারিয়ারের প্রথম পেশির চোট নয়। চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে পিএসভির হয়ে খেলার সময় একই ধরনের পেশির সমস্যার কারণে প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি, ওই সময় তিনটি ম্যাচ মিস করেন। এছাড়া ২০২৩ সালের এপ্রিল ও মে মাসেও আরেকটি পেশির চোটে প্রায় ২২ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে।সাইবারির চিকিৎসা-ইতিহাসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় রয়েছে—জন্মগতভাবে পায়ের একটি সমস্যার কারণে ছোটবেলায় প্রায় দুই বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারতেন না তিনি। পরে অর্থোপেডিক চিকিৎসার মাধ্যমে সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠেন। অবশ্য শৈশবের সেই সমস্যা বর্তমান চোটের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!