ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের প্রথম স্কোয়াড ঘোষণার আর এক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে তার প্রাথমিক দলে বেশ কয়েকটি চমকপ্রদ নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে চারজন ফুটবলার প্রথমবারের মতো সিনিয়র দলে ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। খবর গোল ডটকমের।
সামনে ফ্রান্সের চারটি উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ। ২৫ সেপ্টেম্বর তুরস্ক, ২৯ সেপ্টেম্বর বেলজিয়াম, ২ অক্টোবর ইতালি এবং ৫ অক্টোবর আবারও বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। শেষ ম্যাচটি হবে ফরাসি মাটিতে।
ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক কোচ দিদিয়ের দেশমের রেখে যাওয়া কাঠামো একেবারে বদলে ফেলবেন না জিদান। তবে প্রাথমিক দলে জায়গা পাওয়া নতুন মুখগুলো তার পরিকল্পনার আভাস ইতিমধ্যেই দিচ্ছে। ফুট মেরকাতোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেনের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে প্রথমবার ফ্রান্সের প্রাথমিক দলে ডাক পাচ্ছেন এস্তেবান লেপল।
২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গত মৌসুমে ফরাসি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। তার গোলসংখ্যা ছিল ২১। চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছেন তিনি। তিন ম্যাচে করেছেন তিন গোল।
ইউরোপীয় ফুটবলে অবশ্য লেপলের অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়। চলতি মৌসুমে রেনের হয়ে ইউরোপা লিগে প্রথমবার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাবেন তিনি। তবে ফরাসি লিগে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স জিদানের নজর কাড়ার জন্য যথেষ্ট হয়েছে।
লেপলই একমাত্র নতুন মুখ নন। লে'কিপ জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো প্রাথমিক দলে ডাক পাচ্ছেন পাবলো পাগিসও। রেনের একাডেমির এই ২৩ বছর বয়সী বাঁ প্রান্তের খেলোয়াড় গত মৌসুমে লোরিয়াঁর হয়ে ফরাসি লিগে ১০ গোল করার পাশাপাশি পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। গ্রীষ্মের দলবদলে তিনি প্যারিস এফসিতে যোগ দেন এবং নতুন ক্লাবেও দ্রুতই একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন।
সর্বশেষ ম্যাচে অলিম্পিক মার্সেইয়ের বিপক্ষে তার অ্যাসিস্টে প্যারিস এফসি ৩-২ গোলের জয় পায়। ফরাসি লিগে তার পারফরম্যান্স যে জিদানের নজর এড়াচ্ছে না, সেটিই যেন তার আরেকটি প্রমাণ।
গত কয়েক ঘণ্টায় আরও একটি নতুন নাম সামনে এসেছে; ইসমাইলো গ্যানিও। লঁসের এই ডিফেন্ডারও ফ্রান্সের প্রাথমিক দলে প্রথমবারের মতো ডাক পাচ্ছেন। মাত্র এক বছরেরও কম সময়ে ফরাসি লিগে নিজেকে নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ২১ বছর বয়সী গ্যানিও। এর আগে তিনি বুরকিনা ফাসোর হয়ে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জাতীয় দল পরিবর্তন করে ফ্রান্সের যুব দলে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
ফ্রান্সের রক্ষণভাগে অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কঠিন। লিভারপুলে ধারাবাহিকভাবে নিজেকে মেলে ধরা জেরেমি ফ্রিম্পংও এই পজিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াচ্ছেন। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্যানিও নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারলে খুব দ্রুতই মূল দলে জায়গা পাওয়ার দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন।
নতুন মুখের তালিকায় সর্বশেষ নাম অ্যান্ডি দিয়ুফের। ইন্টার মিলানের হয়ে মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফর্ম করা এই ডান প্রান্তের খেলোয়াড়ও প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের সিনিয়র দলের প্রাথমিক দলে ডাক পাচ্ছেন।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!