উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ার বহরে যুক্ত হলো প্রথম বিমানবাহী রণতরী

ইন্দোনেশিয়ার বহরে যুক্ত হলো প্রথম বিমানবাহী রণতরী
লেখা বড়/ছোট করুন:

বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রথমবারের মতো একটি বিমানবাহী জাহাজ হাতে পেয়েছে। একটি সামরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজটির আগমন উদযাপন করেছে দেশটি। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির একটি নৌঘাঁটিতে পৌঁছায় রণতরীটি।

ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর প্রধান মুহাম্মদ আলি সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার ৪১ বছর পুরোনো ইতালীয় নৌবাহিনীর 'জিউসেপ্পে গারিভালদি' নামের রণতরীটি ইতালি থেকে কলম্বো ও মালাক্কা প্রণালি হয়ে উত্তর জাকার্তার তানজুং প্রিয়ক বন্দরে নোঙর করেছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেছেন, দ্বীপরাষ্ট্রজুড়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় জাহাজটি ব্যবহার করা হবে। তবে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেই জাহাজটি দেশটির বহরে যুক্ত হলো। নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ১৮০ মিটার বা ৫৯০ ফুট দীর্ঘ এই রণতরীতে সর্বোচ্চ ১৮টি হেলিকপ্টার এবং ৮৩০ জন পর্যন্ত সদস্য থাকতে পারবেন।

জাহাজটির নতুন নাম হবে 'কেআরআই শ্রীবিজয়া'। নামটি নেওয়া হয়েছে শ্রীবিজয়া সাম্রাজ্য থেকে, যা সুমাত্রাভিত্তিক একটি সামুদ্রিক রাজ্য ছিল এবং সপ্তম থেকে ১৩ শতাব্দীর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী নৌ ও বাণিজ্যিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।

নৌবাহিনীর প্রধান মুহাম্মদ আলি বলেন, 'এই দেশে অনেক দুর্যোগ ঘটে। তাই আমাদের এমন একটি জাহাজ বা প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন, যাতে অনেক হেলিকপ্টার বহন করা যায়। কারণ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দ্রুত দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।' তবে তিনি জানান, প্রয়োজন হলে জাহাজটি যুদ্ধকালীন অভিযানের জন্যও মোতায়েন করা হতে পারে।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

১৯৮৫ সালে ইতালীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া এই জাহাজটি ২০১৪ সালে অবসরে পাঠানো হয়েছিল। এর আগমন এমন সময়ে হলো, যখন প্রাবোও ইন্দোনেশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়ন এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

গত মার্চে ইন্দোনেশিয়াকে রণতরীটি দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় ইতালি। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ইতালি বর্তমানে সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান নিয়ে চুক্তি করতে আগ্রহী। পাশাপাশি জাহাজটি ইন্দোনেশিয়াকে দেওয়ার ফলে ইতালিকে এটি বাতিল বা নিষ্ক্রিয় করার ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে না।

আলি বলেন, 'এর অবস্থা এখনও খুব ভালো। আশা করছি, এটি আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী ব্যবহার করতে পারবে।' ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় বিমানবাহী রণতরী কর্মসূচির জন্য ৪৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করে। তবে বিরোধী রাজনীতিকদের আশঙ্কা, প্রকল্পটির মোট ব্যয় আরও অনেক বেশি হতে পারে।

তবে সাবেক জেনারেল এবং সুহার্তো সরকারের সময়ের সামরিক কর্মকর্তা প্রাবোও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা চুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন।

২০২২ সালে, সে সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকা প্রাবোওর আমলে জাকার্তা ফ্রান্সের তৈরি ৪২টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করে। এ বছর ভারত নিশ্চিত করেছে যে তারা ইন্দোনেশিয়াকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। এছাড়া চলতি বছর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি বড় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অংশীদারত্ব এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতেও সম্মত হয়েছে জাকার্তা।


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!