২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার তিন সহযোগীর বিচার প্রায় ২৭ বছর পর ২০২৮ সালের জুন মাসে শুরু হবে। মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন বিচারক এই বিচার-সময়সূচি নির্ধারণের আদেশ দিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) মার্কিন বিমান বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামার জারি করা আদেশে বলা হয়, খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার তিন সহযোগীর সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হবে ২০২৮ সালের ৫ জুন। প্রায় দুই দশক ধরে গুয়ানতানামো বে-তে আটক এই চারজনকে ঘিরে আইনি জটিলতা ও অচলাবস্থার পর এই বিচারসূচি নির্ধারণকে মামলার সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিচারকের ১১ পৃষ্ঠার আদেশ অনুযায়ী, খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে ওয়ালিদ মুহাম্মদ সালিহ মুবারক বিন আতাশ, মুস্তফা আহমেদ আদম আল-হাওসাউই এবং আলি আবদুল আজিজ আলিকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
বিচারপ্রক্রিয়ার শুরুতেই সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হবে। সামরিক আইনের বিধান অনুযায়ী এই প্যানেলই মামলাটি শুনবে এবং জুরির দায়িত্ব পালন করবে। প্যানেল গঠনের ৩০ দিন পর শুরু হবে উভয় পক্ষের সূচনা বক্তব্য। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ তাদের সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করবে এবং পরে আসামিপক্ষ খালাসের আবেদন করতে পারবে।
বিচারকের আদেশে এসব আবেদনের বিষয়ে উভয় পক্ষকে বক্তব্য দেওয়ার এবং পরস্পরের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে তাদের মামলা পুনরায় খোলার সুযোগ থাকবে। প্রসিকিউশনের মামলা শেষ হওয়ার ৬০ দিন পর আসামিপক্ষ তাদের প্রধান সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন শুরু করবে এবং সাজা নির্ধারণের মাধ্যমে শেষ হবে পুরো বিচারপ্রক্রিয়া।
প্রসিকিউটররা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিলেও বিচারক শ্রামা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এতে বিচার শুরুর আগে প্রমাণ ও অন্যান্য আইনি বিষয়সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, খালিদ শেখ মোহাম্মদ গুয়ানতানামো বে আটককেন্দ্রের সবচেয়ে পরিচিত বন্দিদের একজন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০২ সালে বিদেশি জঙ্গি সন্দেহভাজনদের আটক রাখার জন্য এই আটককেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।
খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ছিনতাই করা যাত্রীবাহী বিমানগুলো নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং পেন্টাগনে বিধ্বস্ত করার ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ওই হামলায় প্রাণ যায় প্রায় ৩ হাজার মানুষের।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!