যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কয়েক দিন পর দেশটির প্রায় ৭০০ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কানাডা সরকার এ ঘোষণা দেয়।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এসব পণ্যে ৫০, ২৫ ও ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আদায় শুরু হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো মার্কিন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করা। তালিকায় অ্যালুমিনিয়ামের ঘরোয়া সামগ্রী থেকে রেলওয়ের লোকোমোটিভ ও ইস্পাতের সেতু পর্যন্ত রয়েছে।
কানাডার নতুন শুল্কের আওতায় বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন আমদানি পড়বে। পোশাক, বনজ পণ্য, সরঞ্জাম, স্মার্টফোন, ডিশওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন, চুলা ও বিভিন্ন মাছ তালিকায় রয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, তারা 'ডলারের বিনিময়ে ডলার' জবাব দেবে, তবে স্বীকার করেছেন এই পদক্ষেপ কানাডীয়দের ব্যয় বাড়াবে।
বাণিজ্য আলোচনার বড় বিরোধ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ গাড়ি শুল্ক। কানাডা জানায়, মার্কিন গাড়ির ওপর তাদের পাল্টা শুল্ক ২৫ শতাংশই থাকবে, তবে কানাডায় গাড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ দেয়া হবে।
সোমবার ট্রাম্প গাড়ির ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করার হুমকি দেন—কানাডার গাড়ি রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি বিদেশে যায়। কানাডীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, শুল্ক থেকে আদায় হওয়া অর্থের চেয়ে রপ্তানিকারকদের ব্যবসা সচল রাখতে বেশি অর্থ ব্যয় হবে; উদ্দেশ্য রাজস্ব নয়, কানাডীয় নির্মাতাদের সুরক্ষা।
অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, কানাডার পাল্টা শুল্ক অসম যুদ্ধে সীমিত প্রভাব ফেলবে এবং পণ্যের দাম বাড়লে কানাডীয় কোম্পানিগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!