অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় চীনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ ও গুরুত্বপূর্ণ টহল পয়েন্টগুলোতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভারত-চীন সম্পর্কে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের মিত্র আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পিপলস পার্টি অব অরুণাচলের (পিপিএ) একটি অনুসন্ধানী দল এসব অভিযোগ তুলেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, অরুণাচলের আপার সুবানসিরি জেলার তকসিং এলাকায় এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ভারতীয় সেনারা নিয়মিত টহল দিতে পারে না, অন্যদিকে চীনা বাহিনী সক্রিয় থাকে। অনুসন্ধানী দল দাবি করে, ২০২৩ সালে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সঙ্গে সংঘর্ষের পর ভারতীয় বাহিনী 'শেরা-৫' নামের একটি টহল পয়েন্ট থেকে সরে যায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পৈতৃক শিকারের জায়গা হারানোর কারণে তারা ক্ষুব্ধ। একটি উপজাতীয় সংগঠন গত মাসে অভিযোগ করে, চীনা অনুপ্রবেশ 'বহুগুণ বেড়েছে' এবং চীন যতটুকু সম্ভব ভূমি দখলের চেষ্টা করছে।
এই অভিযোগ এমন সময়ে এলো, যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোর সীমান্ত উত্তেজনার পর ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফর সামনে রেখে সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এই প্রতিবেদনকে 'ভুল ও ভিত্তিহীন' বলে প্রত্যাখ্যান করলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক অবস্থান নিয়ে বলেছে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি এবং সীমান্ত পরিস্থিতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে। বেইজিংও সতর্কভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তবে অভিযোগ নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। উভয় দেশ কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলে যোগাযোগ বজায় রেখে সীমান্তে শান্তি রক্ষায় একমত হয়েছে।
প্রায় ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বড় অংশই বিতর্কিত। ভারত ম্যাকমোহন লাইনকে সীমান্ত হিসেবে মানলেও চীন তা প্রত্যাখ্যান করে অরুণাচলকে 'দক্ষিণ তিব্বত' দাবি করে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর এলএসি (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা) কার্যত সীমান্ত হিসেবে গণ্য হলেও দুই দেশ এর সঠিক অবস্থানে একমত নয়। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় ও ৪ চীনা সেনা নিহত হন। ২০১৭ সালে ডোকলামে ৭৩ দিনের উত্তেজনাপূর্ণ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
সীমান্ত উত্তেজনা থাকলেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্যবাণিজ্য ১৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ভারতের আমদানি রপ্তানির তুলনায় বহুগুণ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত হলেও সীমান্ত বিরোধের মূল কারণ অমীমাংসিত থাকায় সম্পর্ককে 'নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!