উৎসবের রঙে সাজছে...
আন্তর্জাতিক

হরমুজের বাইরেও ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করছে ইরান, জাহাজ ঢুকলেই নিষেধাজ্ঞা

হরমুজের বাইরেও ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করছে ইরান, জাহাজ ঢুকলেই নিষেধাজ্ঞা
লেখা বড়/ছোট করুন:

হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন একটি ‘নিয়ন্ত্রিত’ সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ অঞ্চল কার্যকর করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওই এলাকায় প্রবেশ করা যেকোনো জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হবে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ‘নিয়ন্ত্রিত’ নতুন সামুদ্রিক অঞ্চলটি মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের সীমারেখা থেকে শুরু হয়ে উপসাগরের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

রেজায়ি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তি হতে পারে। ওই নৌপথের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি বন্ধ’ এবং এটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—এমন দাবি করেন রেজায়ি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ এখনো খোলা রয়েছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিকে তিনি ‘বড় ধরনের মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।

রেজায়ি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার আগে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজে ১০ কোটি টনেরও বেশি পণ্য পরিবহন হতো। এখন ইরানের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী মাত্র সাত-আটটি জাহাজ এই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচল করছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, আমেরিকানরা অনেক খরচ করে পাঁচ-ছয়টি জাহাজ পার করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব জাহাজে সাধারণত হামলা হয়। জাহাজগুলো তেল বহন করায় সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান। কারণ, এতে ওই অঞ্চলের পরিবেশের ক্ষতি হবে।

এছাড়া ৪৮ ঘণ্টা আগে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের ওপর নতুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবিও করেন রেজায়ি। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর আমাদের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছি। তবে কোন জাহাজের ওপর এবং কোথায় ওই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, তা জানাননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার দাবিও নাকচ করেছেন রেজায়ি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানে বড় ধরনের দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে—এই দাবি মিথ্যা। ইরান সরকার অনেক আগে থেকেই এ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে এবং দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বেড়েছে। এর জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

এর আগে জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ নিয়ে সমাধানের পথে এগোনোর বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল। তবে এরপর দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে ওই সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলেছে।


আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন?

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!