আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জের ধরে জর্ডানের গুরুত্বপূর্ণ আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। একদিন আগেই চালানো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও সেনাসদস্য থাকা এই ঘাঁটিতে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এই পরিস্থিতিতে আল-আজরাক কেন ইরানের নিশানায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঘাঁটিটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হামলার বিবরণ
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশেই শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে এই হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরে সেগুলো আবার ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এছাড়া ‘ওয়ারথগ’ নামে পরিচিত একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট সামরিক বিমান একটি ডানা হারিয়েছে।
সিবিএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য প্রজেক্টাইল ঠেকাতে জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনী ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরাকে বলেন, সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে ইরানের হামলা কার্যকর কিছুই করতে পারেনি।
ইরানের দাবি
মঙ্গলবার রাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, তারা জর্ডানের জারকা গভর্নরেটের আজরাক এলাকার কাছে মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ‘ধ্বংসাত্মক’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ঘাঁটিটি আল-আজরাক ঘাঁটি নামেও পরিচিত।
আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আইআরজিসির বিবৃতির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রস্তুতি ও মোতায়েনের স্থান এবং সেগুলোর আশ্রয়কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে শত্রুপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় আইআরজিসি।
কেন জর্ডানকে লক্ষ্য করছে ইরান?
সাম্প্রতিক উত্তেজনার নতুন দফায় জর্ডানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করেছে ইরান। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালির ইরানি দ্বীপ লারাকে থাকা রকেট লঞ্চারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্য দিয়ে এই উত্তেজনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ওই লঞ্চারগুলো ব্যবহার করে ইরান হরমুজে সমুদ্রের নিচে মাইন ছড়িয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালায়। এখন সেই হামলার পরিধি জর্ডান পর্যন্ত ছড়িয়েছে। চলমান যুদ্ধে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আল-আজরাক ঘাঁটিতে ১০ বারের বেশি হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
১৭ জুলাই ইরান দাবি করে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক বিমানে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করে তারা। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওই হামলায় তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। আরও একজন নিখোঁজ এবং চারজন আহত হন।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!