ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক তেল চুক্তিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলেও এর সুফল শিগগিরই মার্কিন সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে না। বরং প্রাথমিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেশটির তেল কোম্পানিগুলোর। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও পরিশোধনে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকায় এই চুক্তি অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে পারবে না। আল জাজিরার বিশ্লেষণ।
গত ২৮ আগস্ট চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি করবে এবং গ্যাসোলিনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল) প্রমাণিত তেল মজুত থাকলেও তা ভারী ও সালফারযুক্ত, ফলে উত্তোলন ও পরিশোধন ব্যয়বহুল। চুক্তির আওতায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতে প্রবেশাধিকার পাবে ওয়াশিংটন, যেখানে দৈনিক ২ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। তবে পুরোনো অবকাঠামো, দুর্বল পাইপলাইন ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
চুক্তি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার বদলে বেড়েছে, কারণ হরমুজ প্রণালির সংকট বিশ্ববাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি করেছে। ভেনেজুয়েলার ভারী তেল উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন শোধনাগার, চীন ও ভারতের মতো কয়েকটি দেশের বিশেষায়িত শোধনাগারেই বেশি উপযোগী।
সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর; ইতোমধ্যে শেভরনের শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে মার্কিন সাধারণ ভোক্তাদের জন্য সস্তা জ্বালানির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে।
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!